প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেকের ১০ম সভা

0
9

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশম সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। সভায় মন্ত্রিসভার সদস্য, পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আর্থসামাজিক অবকাঠামো খাতের চারটি, কৃষি ও পানি সম্পদ এবং পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতের দুটি এবং ভৌত অবকাঠামো খাতের ১১টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নগর সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন, গ্রামীণ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার, নতুন সেতু নির্মাণ এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া, একনেকের অবগতির জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন খাতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সংশোধিত পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর আগে, গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভায় ১৯টি প্রকল্প উপস্থাপনের কথা থাকলেও সময় সংকটের কারণে আটটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শেষে বৈঠক স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি অনুমোদন পায় এবং দুটি প্রকল্প পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়। বাকি প্রকল্পগুলো আজকের সভায় পুনরায় আলোচনায় তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, এতদিন শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হলেও এবার ভিন্নভাবে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজতর করার লক্ষ্যে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর এ উদ্যোগ দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here