নতুন ব্রিজ এলাকায় ‘গোপন অফিস’: মাসিক চুক্তিতে অবৈধ সিএনজি সিন্ডিকেট, লাখো টাকার লেনদেন

0
15

জাহিদুল ইসলাম শ্রাবণ, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামের শাহ আমানত নতুন ব্রিজ এলাকায় দূর থেকে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিকশা মনে হলেও কাছ থেকে দেখা যায়—এসবের অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলের সিএনজি, যেগুলো ফিটনেসবিহীন ও অবৈধভাবে চলাচল করছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব যানবাহন প্রাইভেট সিএনজির ছদ্মবেশে সড়কে নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব সিএনজি অটোরিকশায় প্রিন্ট করা কাগজের বোর্ডে ঝোলানো নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুয়া বা অন্য জেলার নিবন্ধন নম্বর। চালকদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৪-১৬ বছর বয়সী) এবং তাদের অধিকাংশেরই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। প্রতিদিন নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে পটিয়া, শান্তিরহাট, আনোয়ারা-চাতুরী ও চৌমুহনী রুটে যাত্রী পরিবহন করছে এসব অবৈধ যানবাহন। ফলে ব্যস্ততম এই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট এবং বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন ব্রিজ এলাকায় শতাধিক অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। প্রতিটি অটোরিকশা মাসিক প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে সড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, হারুন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন করা হয়। অগ্রিম টাকা পরিশোধের পর চালকদের মৌখিক অনুমোদন দেওয়া হয়। এমনকি সড়কে অন্য ট্রাফিক সদস্যরা কোনো গাড়ি আটক করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করলে তা ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। জুলাইয়ের পর থেকে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব সিএনজি অটোরিকশায় গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা থেকে নম্বর জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এছাড়া চালকদের লাইসেন্স যাচাই করতে চাইলে তারা তা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক জানান, তারা নির্ধারিত মাসিক অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাচ্ছেন। কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তা সমাধান হয়ে যায়।
এদিকে, নতুন ব্রিজ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পরিদর্শকের (টিআই) বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাকে নির্ধারিত পুলিশ বক্সে পাওয়া যায়নি। পরে মধুবন বেকারির পেছনে অবস্থানকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘এ ধরনের কোনো অবৈধ গাড়ি এখানে নেই। থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ফোন করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রতিবেদকের পক্ষে তখন আর উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here